বিড়াল বা কুকুরের একটি ছবি দিয়ে বানান পোষ্যের কল্পলোকের যাত্রা

বিড়াল বা কুকুরের একটি ছবি দিয়ে বানান পোষ্যের কল্পলোকের যাত্রা

টিউটোরিয়ালপ্রকাশিত

ছোট একটি ব্যাগ পিঠে নিয়ে বিড়ালটি আলোকিত ফুলের পথ ধরে অভ্যর্থনা ডেস্কের দিকে যায়। নীল টুপি পরা কঙ্কাল কর্মী পর্দার ছবিটি দেখে গেটের ওপারের শহরের দিকে ইশারা করেন। বিড়ালটি আবার এগিয়ে চলে। প্রায় দশ সেকেন্ডে একটি ছোট যাত্রার গল্প শেষ হয়।

ZOOOP-এর পোষ্যের কল্পলোকের চেক-ইন টেমপ্লেট দিয়ে এমন দৃশ্য তৈরি করা যায়। একটি ছবি আপলোড করলেই আপনার বিড়াল বা কুকুর হয়ে উঠতে পারে ভিডিওর প্রধান চরিত্র। নিচের কমলা বিড়াল ও গোল্ডেন রিট্রিভারের ভিডিও দুটি সত্যিই তৈরি করা হয়েছে। ছবি বাছাই ও ফলাফল দেখার সময় এগুলো কাজে লাগবে।

পোষ্যের ভিডিওতে কী ঘটে?

গল্পের শুরু একটি উজ্জ্বল কল্পলোকের প্রবেশদ্বারে। পথে কমলা পাপড়ি, দরজার পাশে স্ফটিক, আর দূরের শহরে জ্বলছে লণ্ঠন। ছোট টুপি ও গলায় রুমাল পরা পোষ্যটি স্বচ্ছ নীল কাউন্টারের কাছে আসে। কর্মী তার প্রতিকৃতি দেখে হাসেন এবং তাকে ভেতরে যেতে দেন।

কঙ্কালের মুখে বন্ধুত্বপূর্ণ অভিব্যক্তি; দৃশ্যের মূল ভাব ভ্রমণ ও স্বাগত। একে কল্পনার বেড়ানো হিসেবে উপভোগ করতে পারেন, আবার পোষ্যের স্মৃতির কোনো কাজেও ব্যবহার করতে পারেন। যাত্রাটিকে বিদায়ের অর্থ দেবেন কি না, তা আপনার সিদ্ধান্ত। এখানে দুটি উদাহরণ শুধু অ্যানিমেশনের রূপ দেখায়।

ভিডিওটি খাড়া ফ্রেমে, দৈর্ঘ্য প্রায় দশ সেকেন্ড। লোমে নরম অ্যানিমেশনের আবহ আসে, তবে কান, লোমের রং ও মুখের গড়ন পোষ্যকে চেনার সূত্র হিসেবে থাকে। ছোট গল্প বা পোষ্যের অ্যালবামে ভিন্ন একটি দৃশ্য যোগ করতে এটি মানানসই।

কমলা বিড়াল ও গোল্ডেন রিট্রিভারের উদাহরণ

বিড়ালের ভিডিওতে কমলা ডোরা, সাদা বুক ও বিড়ালের অবয়ব বজায় থাকে। ডেস্কের কাছে যাওয়ার সময় লেজ ও ব্যাগ নড়ে। পর্দার কাছের শটেও একই বিড়ালের প্রতিকৃতি দেখা যায়।

কমলা বিড়াল ফুলের পথ ধরে ডেস্কে আসে; পর্দায় তার সঙ্গে মিলে যাওয়া প্রতিকৃতি দেখা গেলে তাকে এগিয়ে যেতে দেওয়া হয়

গোল্ডেন রিট্রিভারের ঝুলে থাকা কান, সোনালি লোম ও লম্বা মুখের সামনের অংশ তাকে বিড়াল থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা করে। পর্দায় একই কুকুরের প্রতিকৃতি দেখা যায়। শেষ দৃশ্যে চলে যাওয়ার সময়ও কুকুরের শরীরের গড়ন বজায় থাকে।

ছোট ব্যাগ পিঠে নিয়ে গোল্ডেন রিট্রিভার চেক-ইন করছে, কর্মীর পর্দায় একই কুকুরের প্রতিকৃতি দেখা যাচ্ছে

এই ভিডিওগুলো দৃশ্যের বিন্যাস ও গল্প বোঝার জন্য ব্যবহার করুন। প্রতিবার ফল আলাদা হতে পারে। ছোট লোমের বিড়াল, কালো কুকুর বা মুখে আলাদা ছোপ থাকা পোষ্যকে অ্যানিমেশনে অন্যরকম লাগতে পারে। প্রতিটি ফ্রেম হুবহু মিলে যাবে ধরে না নিয়ে নিজের ফলাফল দেখুন।

যে ছবিতে পোষ্যের পরিচয় স্পষ্ট, সেটিই বাছুন

রাতের সুন্দর কিন্তু অন্ধকার ছবির চেয়ে একটি প্রাণীর পরিষ্কার, সমান আলোয় তোলা ছবি সাধারণত বেশি কাজে আসে। চোখ, কান ও মুখের সামনের অংশ দৃশ্যমান রাখুন। ছবি কাটার সময় সাদা বুক, কপালের দাগ বা কানের আকারের মতো পরিচিত বৈশিষ্ট্য বাদ দেবেন না।

পুরো শরীরের ছবি থেকে অনুপাতের বেশি তথ্য পাওয়া যায়। শুধু অর্ধেক শরীরের ছবি থাকলেও মুখ ও কাঁধ পরিষ্কার দেখা উচিত; নাকের খুব কাছের ছবি এড়িয়ে চলুন। এক ছবিতে দুটি পোষ্য, শক্ত করে কোলে ধরায় ঢাকা শরীর বা কম্বলে ঢাকা বেশির ভাগ অংশ প্রধান চরিত্রকে অস্পষ্ট করতে পারে।

ভিডিও বানানোর আগে ছবিটি ছোট করে দেখুন। তখনও কি সঙ্গে সঙ্গে পোষ্যকে চিনতে পারছেন? লোম ছায়ায় হারিয়ে গেলে বা কান পেছনের দৃশ্যের সঙ্গে মিশে গেলে জানালার পাশে তোলা ছবি ভালো হতে পারে। স্বাভাবিক রং রাখুন এবং চোখ বা মুখের গড়ন বদলে দেওয়া ফিল্টার এড়িয়ে চলুন।

ZOOOP-এ ছোট যাত্রাটি তৈরি করুন

টেমপ্লেট খুলে বিড়াল বা কুকুরের একটি ছবি আপলোড করুন, তারপর উপলব্ধ রেজোলিউশন বাছুন। প্রথমবার প্রভাব দেখার জন্য কম রেজোলিউশন দিয়ে শুরু করতে পারেন। বড় পর্দায় দেখাতে চাইলে বেশি রেজোলিউশনের কথা ভাবুন। তৈরি করার আগে দেখানো ব্যবহারের পরিমাণ দেখে নিন।

ফল তৈরি হলে কাছের শট দেখার আগে পুরো ভিডিওটি একবার চালান। গল্প টেমপ্লেটে তৈরি আছে; আপনার মূল কাজ ছবি বাছাই ও ফল যাচাই করা। শুধু কভার দেখে পুরো ভিডিওতে মিল আছে কি না বোঝা যায় না। সামনে, পাশ ও পেছনের দৃশ্যে পরিচিত লোমের রং বজায় আছে কি না দেখুন।

অন্য দৃশ্যের জন্য ZOOOP টেমপ্লেট লাইব্রেরি দেখতে পারেন। একই ঝাপসা স্ক্রিনশট বারবার ব্যবহারের চেয়ে পছন্দের গল্প বেছে তার উপযোগী ছবি খুঁজে নেওয়া বেশি কাজে আসতে পারে।

শেয়ার করার আগে চারটি বিষয় দেখুন

প্রথমে মুখ দেখুন। চোখ, কান ও মুখের গড়ন কি এখনও আপনার পোষ্যের মতো? অ্যানিমেশন লোমকে সরল করতে পারে, কিন্তু প্রধান চরিত্রকে চেনা যাওয়া উচিত।

এরপর অভ্যর্থনার পর্দায় থামুন। প্রতিকৃতির প্রাণীটি কাউন্টারের সামনে থাকা পোষ্যের সঙ্গে মিলতে হবে। কমলা বিড়াল অন্য বিড়াল হয়ে যাওয়া বা গোল্ডেন রিট্রিভার অন্য জাতের কুকুর হয়ে যাওয়া ঠিক নয়। ছোট ভিডিওতে বিষয়টি চোখ এড়ালেও গল্পের ধারাবাহিকতার জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, চলার সময় পা ও লেজ দেখুন। বাড়তি পা, হঠাৎ আকার বদলে যাওয়া বা মুহূর্তের জন্য মানুষের মতো শরীর হচ্ছে কি না খেয়াল করুন। চতুর্থত, পেছনের ছোট অক্ষরগুলো দেখুন। এই উদাহরণেও সাইনবোর্ডে অস্বাভাবিক অক্ষর ও কোণে ছোট চিহ্ন রয়ে গেছে। এগুলোকে পড়ার উপযোগী শিরোনাম বা বিবরণ হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

সমস্যা দেখলে আগে দেখুন মূল ছবিতে ওই অংশ ঢাকা আছে কি না। থাকলে আরও পরিষ্কার ছবি চেষ্টা করুন। ছবি যথেষ্ট পরিষ্কার হলেও আবার ভিডিও তৈরি করে দেখতে হতে পারে। রেজোলিউশন বাড়ালেই মুখ, পা বা পর্দার প্রতিকৃতি ঠিক হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

পোষ্যের সঙ্গে মানানসই একটি কথা যোগ করুন

ভ্রমণের গল্পে লিখতে পারেন, “ব্যাগ প্রস্তুত। এবার আরেকটি ছোট অভিযানে।” স্মৃতির কাজে পরিচিত ডাকনাম বা বাস্তব কোনো ছোট অভ্যাসের কথা দীর্ঘ বিদায়বার্তার চেয়ে আপন মনে হতে পারে।

শেয়ার করার সময় দৃশ্যটি AI দিয়ে তৈরি বলে জানিয়ে দিন, যাতে দর্শক এটিকে কল্পনার গল্প হিসেবে বোঝেন। ভিডিওর জগৎ সমৃদ্ধ হলেও সঙ্গে লেখা কথাটি সহজ রাখতে পারেন।

ছবি প্রস্তুত হলে পোষ্যের কল্পলোকের চেক-ইন টেমপ্লেট খুলে আপনার সঙ্গীকে ফুলের পথে পাঠান। তৈরি হয়ে গেলে অভ্যর্থনার পর্দায় থামিয়ে প্রতিকৃতির পোষ্যটিকেও দেখে নিন।

শেয়ার করুন