
এআই দিয়ে বিড়াল বা কুকুরের কেক চুরির ভিডিও বানাবেন যেভাবে
প্রথমবার ফ্রিজ খুললে কেকটা অক্ষত। আবার খুলতেই দেখা যায় ট্রে খালি, আর লোমশ দুষ্টুটি তখনও চামচ ধরে আছে। এমন এআই পোষা প্রাণীর ভিডিওর গল্প বুঝতে আলাদা ব্যাখ্যা লাগে না। শেষের নিষ্পাপ মুখটাই হাসির কারণ।
ZOOOP-এর পোষা প্রাণীর ফ্রিজ থেকে কেক চুরির টেমপ্লেট বিড়াল বা কুকুরের একটি ছবি থেকে প্রায় দশ সেকেন্ডের উল্লম্ব ভিডিও তৈরি করে। আমরা কমলা ডোরাকাটা বিড়াল ও গোল্ডেন রিট্রিভার দিয়ে নমুনা বানিয়েছি। এখানে ফলাফল, ছবি বাছাইয়ের পরামর্শ এবং শেয়ার করার আগে কী দেখবেন তা তুলে ধরা হলো।
ফলাফল দেখুন: এক কামড় থেকে খালি ট্রে
ক্যামেরা ফ্রিজের ভেতরে স্থির থেকে বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে। সামনে ধাতব ট্রেতে স্তরযুক্ত কেক রাখা। পোষা প্রাণীটি দরজা দিয়ে উঁকি দিয়ে সামনের থাবায় এক চামচ কেক তোলে। দরজা অল্পক্ষণের জন্য বন্ধ হলে পর্দা অন্ধকার হয়। আবার খুলতেই খাওয়ার গতি বাড়ে, যতক্ষণ না কেক শেষ হয়ে যায়।

বিড়ালের কমলা লোম ও সাদা সামনের থাবা চেনা যায়। চামচ ধরার ভঙ্গি একটু বাড়াবাড়ি হলেও মুখ এবং ধরা পড়ার অভিব্যক্তি স্পষ্ট। এই সামান্য কার্টুনের মতো নড়াচড়া এআই পোষা প্রাণীর ভিডিওটিকে ছোট্ট হাসির নাটিকার রূপ দেয়।

কুকুরটির ঝুলে থাকা কান, চওড়া মুখের সামনের অংশ এবং সোনালি লোমও চেনা যায়। দুটি ভিডিওতেই দরজা বন্ধ হওয়ার বিরতি ও শেষে খালি ট্রে আছে। এগুলো তৈরি করা দৃশ্য, সত্যিকারের পোষা প্রাণীকে কেক খাইয়ে তোলা ভিডিও নয়।
মুখ ও সামনের থাবা স্পষ্ট এমন ছবি বাছুন
এআই পোষা প্রাণীর ভিডিওতে মুখ আগে নজর কাড়ে, কিন্তু অস্বাভাবিকতা প্রায়ই থাবায় ধরা পড়ে। সুন্দর অভিব্যক্তির ঝাপসা ছবির চেয়ে সমান আলোতে তোলা, লোমের দাগ স্পষ্ট এমন পরিষ্কার ছবি সাধারণত বেশি কাজে আসে।
ছবিতে একটি প্রাণীই রাখুন। দুই কান, নাক-মুখ ও সামনের থাবা যেন দেখা যায়। ক্যামেরার দিকে বা একটু পাশ ফিরে বসা ভঙ্গি দিয়ে শুরু করতে পারেন। কম্বল বা পোশাকে মুখ ঢাকা থাকলে চেনার মতো বৈশিষ্ট্য কমে যায়। গাঢ় লোমের প্রাণীর জন্য হালকা পটভূমি কান ও শরীরের রেখা আলাদা করে দেখাতে পারে।
ছবির পেছনে রান্নাঘর থাকা জরুরি নয়। বসার ঘরের মেঝে বা সাদা দেয়ালও চলবে; পরিবেশের চেয়ে প্রাণীটি স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্টার, লোমের রং বদল বা সাজসজ্জা যোগ করার আগে পুরোনো ছবিগুলো দেখুন। বেশি মসৃণ করার ফিল্টারে গোঁফ, নাকের গঠন ও লোমের সূক্ষ্ম বিবরণ মুছে যেতে পারে।
তিন ধাপে এআই পোষা প্রাণীর ভিডিও বানান
প্রথমে টেমপ্লেট খুলে ছবি আপলোড করুন। প্রিভিউতে একটি বিড়াল বা কুকুর আছে এবং মুখ কাটা যায়নি কি না দেখুন। তারপর রেজোলিউশন বাছুন। দুটি বিকল্পেই একই দশ সেকেন্ডের উল্লম্ব দৃশ্য তৈরি হয়। বেশি রেজোলিউশনে লোম বা চামচের ধার আরও বিস্তারিত দেখা যেতে পারে।
এরপর তৈরি করা শুরু করে অপেক্ষা করুন। সময় কমবেশি হতে পারে। কাজ চলতে থাকলে সেটি খোলা রাখুন, বারবার নতুন কাজ শুরু করবেন না। নতুন করে জমা দিলে আলাদা ফলাফল তৈরি হয়; আগের কাজ তাড়াতাড়ি শেষ হবে এমন নয়। জমা দেওয়ার আগে দেখানো খরচ দেখে নিন।
সবশেষে ডাউনলোডের আগে পুরো ভিডিও দেখুন। অন্য এআই ভিডিও তৈরির কাজের মতো এখানেও ছবিটি প্রাণীর চেহারার নির্দেশনা দেয়। প্রতিটি গোঁফ বা দাগ হুবহু রাখা হয় না। ফলাফলটিকে আপনার পোষা প্রাণীর চেনা রূপ অভিনীত ছোট্ট কমেডি হিসেবে ভাবুন।
ডাউনলোডের আগে তিনটি বিষয় দেখুন
এআই পোষা প্রাণীর ভিডিওর শুধু প্রথম ফ্রেম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। মাথা তোলা বা নামানোর সময় কান, মুখের সামনের অংশের দৈর্ঘ্য বা লোমের রং হঠাৎ বদলে যায় কি না দেখুন। বিড়াল মাঝপথে কুকুর হয়ে গেলে বা রিট্রিভারের মুখ অন্যরকম হয়ে গেলে শেয়ার করার আগে আবার চেষ্টা করুন।
তারপর চামচ ধরা থাবার দিকে নজর দিন। আমাদের বিড়ালের নমুনায় তোলা সাদা থাবাটি একটু অতিরঞ্জিত, তাই অংশটি ধীরে দেখা ভালো। বাড়তি থাবা, শরীর ভেদ করা চামচ বা মানুষের হাতের মতো থাবা আছে কি না দেখুন। একটি বিশ্বাসযোগ্য স্থির ফ্রেম মানেই স্বাভাবিক নড়াচড়া নয়।
শেষে কেক ও ট্রে দেখুন। এআই পোষা প্রাণীর ভিডিওর শেষটা যেন বোঝায়, কেক খাওয়া হয়ে গেছে। টুকরো বা ক্রিমের দাগ থাকতে পারে, কিন্তু বড় অক্ষত টুকরো থাকলে মজা কমে যায়। দরজা আবার খোলার পর ফ্রিজ ও ক্যামেরার অবস্থানও একই থাকা উচিত।
ফলাফল অস্বাভাবিক হলে আগে অন্য ছবি চেষ্টা করুন
মুখ ভালোভাবে চেনা না গেলে আরও সামনে থেকে তোলা পরিষ্কার ছবি নিন। কান বা সামনের থাবা বারবার অদ্ভুত হলে মূল ছবিতে সেগুলো কাটা বা ঢাকা ছিল কি না দেখুন। একবারে একটি বিষয় বদলালে কোন ছবি ভালো কাজ করে তা বোঝা সহজ।
বেশি রেজোলিউশন বিস্তারিত বাড়ায়, কিন্তু বিকৃত শারীরিক গঠন ঠিক করার নিশ্চয়তা দেয় না। এআই পোষা প্রাণীর ভিডিও টেমপ্লেটে কাজের ধরন আগে থেকেই আছে, তাই দীর্ঘ নির্দেশনা লিখতে হবে না। পরিষ্কার ছবি বাছাই ও ফলাফল যাচাই দিয়েই শুরু করুন।
শেয়ার করার সময় মজার শেষটুকু রাখুন
ভিডিওটি প্রায় দশ সেকেন্ডের এবং উল্লম্ব। দরজা বন্ধ থাকার ছোট্ট বিরতি ও শেষের খালি ট্রে রাখুন। এতে ‘একটু চেখে দেখব’ থেকে ‘সব শেষ’ হওয়ার গল্প বোঝা যায়। লেখা যোগ করলে মুখ, চামচ ও ট্রে যেন ঢাকা না পড়ে।
‘এক কামড়ই খাব। কথা দিলাম!’ লিখতে পারেন, অথবা লেখা ছাড়াই অভিব্যক্তিকে কথা বলতে দিন। ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি তা জানিয়ে দিন, যেন বন্ধুরা একে সত্যিকারের ঘটনা না ভাবেন। আরও ধারণার জন্য পোষা প্রাণীর ভিডিও টেমপ্লেট দেখুন, বা ফ্রিজ থেকে কেক চুরির টেমপ্লেটে ফিরে অন্য ছবি চেষ্টা করুন।