পোষা প্রাণীর একটি ছবি থেকে যোদ্ধা বিড়ালের এআই ভিডিও কীভাবে বানাবেন

পোষা প্রাণীর একটি ছবি থেকে যোদ্ধা বিড়ালের এআই ভিডিও কীভাবে বানাবেন

টিউটোরিয়ালপ্রকাশিত

জনশূন্য প্রান্তরে কুয়াশা, বৃষ্টি আসছে আড়াআড়ি। দূরে দাঁড়িয়ে আছে রুপালি বর্ম পরা খুব ছোট্ট একটা বিড়াল, তার লাল কেপ বাতাসের টানে টানটান হয়ে আছে, পাশে কাদায় গাঁথা একটা তলোয়ার। ক্যামেরা কাছে এগোয়। সে দুই থাবায় হাতল জড়িয়ে ধরে তলোয়ারটা মাটি থেকে টেনে তোলে, চারদিকে কাদা ছিটকে যায়। তারপর একটা ক্লোজ-আপ: লোম ভিজে চুপচুপে, চোখ সরু, এক চুলও পিছু হটার নাম নেই।

এটাই যোদ্ধা বিড়াল, আর এই মাসে এটা সবার ফিড জুড়ে। এই লেখায় থাকছে মিমটা কোথা থেকে এল, আর নিজের বিড়াল বা কুকুরের একটি ছবিকে কীভাবে যোদ্ধা বিড়ালের ভিডিওতে বদলে নেবেন।

যোদ্ধা বিড়াল মিম কী?

শুরুটা আগস্টে এক এআই ক্রিয়েটরের পোস্ট করা দুটি ছোট ক্লিপ দিয়ে: গোলাপি বো পরা একটা বিড়ালছানা, গায়ে বর্ম, কুয়াশাঢাকা প্রান্তরে তলোয়ার হাতে, মুখে পুরোপুরি গম্ভীর ভাব। দুটি মিলিয়ে লাইক পড়েছে দশ লাখেরও অনেক বেশি। সেপ্টেম্বরের শেষে কেউ একটা সংস্করণ বানাল, যেখানে বিশাল, পেশিবহুল এক যোদ্ধা দাঁড়িয়ে আছে এক পুঁচকে যোদ্ধা বিড়ালের পাশে। সেটা তিরিশ লাখ লাইক পেরিয়ে গেল, আর তারপর থেকে এটা সবখানে।

মানুষ এটাকে নিজের ছোটখাটো লড়াইয়ের ক্যাপশন-মেশিন হিসেবে ব্যবহার করে: সোমবার সকালে বিছানা ছাড়া, পরীক্ষা, বাড়িওয়ালার সঙ্গে দরদাম, পিৎজার শেষ টুকরো। ঝড়ের মধ্যে অটল দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট একটা বিড়াল যেকোনো কথার চেয়ে ভালো করে সেটা বুঝিয়ে দেয়।

সার্চও দ্রুত তাল ধরেছে। Google Trends-এর বিশ্বজুড়ে ডেটায় অক্টোবরের আগে “knight cat” প্রায় নড়েইনি, তারপর মাসের প্রথম কয়েক দিনে হঠাৎ লাফিয়ে উঠেছে, ৪ অক্টোবর চূড়ায় পৌঁছেছে, আর তখন থেকে উঁচুতেই আছে।

১০ সেকেন্ডে তিনটি শট

আমাদের Knight Cat টেমপ্লেট এই লুকটাকে তিনটি শটে ভাগ করে:

  1. ওয়াইড শট। ঝোড়ো প্রান্তরে আপনার পোষা প্রাণীটি ছোট্ট একটা অবয়ব, তার তলোয়ার ঠিক পাশেই মাটিতে গাঁথা। ক্যামেরা ধীরে ধীরে কাছে আসে।
  2. তলোয়ার টেনে তোলা। একটা মিডিয়াম শট: সে দুই থাবায় হাতল আঁকড়ে ধরে কাদা থেকে তলোয়ারটা টেনে বের করে, ফলা থেকে কাদা আর বৃষ্টির জল ছিটকে পড়ে। এক মুহূর্ত তলোয়ারটা উঁচু করে ধরে রাখে, তারপর নামিয়ে নেয় নিজের পাশে।
  3. ক্লোজ-আপ। নিচু অ্যাঙ্গেল, মুখটা পুরো ফ্রেম জুড়ে, ভেজা লোম বাতাসে উড়ছে আর গোঁফ বেয়ে বৃষ্টির ফোঁটা ঝরছে।

যোদ্ধা বিড়ালের ভিডিওর তিনটি শট: ওয়াইড শটে মাটিতে গাঁথা তলোয়ার, তলোয়ার বেরোতেই কাদা ছিটকে পড়া, আর ভিজে চুপচুপে ক্লোজ-আপ

ছবির সঙ্গেই শব্দ তৈরি হয়: বাতাস, বৃষ্টি আর কাদা থেকে ফলা বেরিয়ে আসার ঘষটানির আওয়াজ, কোনো সংলাপ নেই। ফ্রেমে কোনো লেখা থাকে না, তাই ক্যাপশন পুরোটাই আপনার।

পোষা প্রাণীর ঠিক ছবিটা কীভাবে বাছবেন

যোদ্ধা বিড়ালের ভিডিও বানাতে লাগে মাত্র একটি ছবি, কিন্তু যোদ্ধাকে তখনো আপনার পোষা প্রাণীর মতো দেখাবে কি না, তা ঠিক করে ওই ছবিটাই।

মুখ স্পষ্ট, সম্ভব হলে পুরো শরীর। লোমের রং, গায়ের দাগ আর চোখের রং, সবই আসে এই ছবি থেকে। গুটিসুটি মেরে বলের মতো শুয়ে থাকা বিড়ালেও চলে, যদিও তখন গায়ের দাগগুলো ঠিকঠাক আনা কঠিন।

ঝাপসা, পাশ থেকে তোলা বা ভারী ফিল্টার দেওয়া ছবি বাদ দিন। ভালো আলোয় তোলা একটা সাধারণ ছবিই যথেষ্ট। সাজিয়ে-গুছিয়ে কিছু করার দরকার নেই।

বিড়াল আর কুকুর, দুটোতেই চলে। আমরা চেষ্টা করেছি একটা কমলা বিড়ালছানা, একটা র‍্যাগডল, একটা করগি আর একটা কালো ল্যাব্রাডর দিয়ে। চারটিই বর্ম পরে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়িয়েছে, আসল থাবা আর নিজের লেজ নিয়েই।

ছবি আর ফলাফল পাশাপাশি: কমলা বিড়ালছানা আর কালো ল্যাব্রাডর যোদ্ধা হয়ে গেছে, লোম আর চোখের রং অপরিবর্তিত

ZOOOP-এ যোদ্ধা বিড়ালের ভিডিও কীভাবে বানাবেন

  1. টেমপ্লেট পেজ খুলুন আর আপনার বিড়াল বা কুকুরের একটি স্পষ্ট ছবি আপলোড করুন।
  2. রেজোলিউশন বেছে নিন: ডিফল্ট 720p, আর খরচ কমাতে চাইলে 480p।
  3. জেনারেট চাপুন। সাধারণত এক-দুই মিনিট লাগে।

কোনো প্রম্পট লিখতে হবে না। প্রান্তর, ঝড়, বর্ম, কেপ আর তিনটি শটের সময় আগে থেকেই ঠিক করা আছে।

প্রতিবার ঝড়টা আলাদা

একই ছবি থেকে কয়েকবার জেনারেট করুন, আবহাওয়া বদলে যাবে। কখনো কুয়াশার ভেতর দিয়ে ভেসে আসা ঝিরঝিরে বৃষ্টি, কখনো পুরো ফ্রেম ভরা বৃষ্টি আর পাশের দিকে উড়তে থাকা কেপ। আমাদের মনে হয় এটা একটা গুণ: আরও উদ্দাম সংস্করণ চাইলে আরেকবার চালিয়ে দিন।

এই র‍্যাগডলের ভাগ্যে পড়েছে হালকা বৃষ্টি, কিন্তু তলোয়ার টানাটা খুব স্থির। অ্যানিমেশনগুলো নিঃশব্দ; আসল ক্লিপে শব্দ আছে।

র‍্যাগডল যোদ্ধা বিড়াল কাদায় গাঁথা তলোয়ার আঁকড়ে ধরে, টেনে বের করে, তারপর নিজের পাশে নামিয়ে নেয়

করগির ভাগ্যে পড়েছে মুষলধারে বৃষ্টি, আর তলোয়ার বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে কাদা ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে।

মুষলধারে বৃষ্টিতে করগি যোদ্ধা কাদা থেকে তলোয়ার টেনে বের করছে, চারদিকে কাদা ছিটকে পড়ছে

টেমপ্লেট বানাতে গিয়ে কী কী গড়বড় হয়েছে

আগে যা কিছু বানিয়েছি, তার যেকোনোটার চেয়ে এই টেমপ্লেটে বেশি দফা লেগেছে। নিচের সবকিছুই আসল ক্লিপে দেখা দিয়েছে।

চারটি ব্যর্থতা: মানুষের সমান লম্বা যোদ্ধা, মাথার পেছন থেকে বেরিয়ে থাকা তলোয়ার, কোমরে দ্বিতীয় একটা তলোয়ার, প্রথম শটে তলোয়ারই নেই

যোদ্ধাকে মানুষের মতো দেখাচ্ছিল। শুরুর সংস্করণগুলোতে আমরা পেয়েছিলাম প্রায় মানুষের সমান লম্বা এক যোদ্ধা, লম্বা পা আর চওড়া কাঁধ, ওপরে একটা বিড়ালের মাথা। আসল মিমের মজাটাই হলো যোদ্ধা পুঁচকে, তাই এখন “একটি ছোট বিড়াল” কথাটা সবার আগে আসে।

তলোয়ার শরীর ভেদ করে চলে গেল। শুরুতে তলোয়ার বের করা হতো যোদ্ধার পিঠ থেকে। পেছন থেকে সামনে ঘোরাতে গিয়ে ফলাটা মাঝেমধ্যে সোজা শরীরের ভেতর দিয়ে চলে যেত, আর একটা ক্লোজ-আপে মনে হচ্ছিল সেটা যেন মাথার পেছন থেকে গজিয়েছে। এখন ক্লোজ-আপের আগেই যোদ্ধা তলোয়ারটা নিজের পাশে নামিয়ে নেয়, তাই সেখানে কোনো তলোয়ার দেখা যায় না।

কোমরে দ্বিতীয় একটা তলোয়ার হাজির। যখন আমরা কোমরে খাপ দিলাম, যোদ্ধা তলোয়ার বের করত আর তবুও খাপে একটা নতুন তলোয়ার এসে হাজির হতো। যা-ই চেষ্টা করি, কিছুতেই ঠিক হয়নি, তাই আমরা খাপটাই বাদ দিয়ে যোদ্ধাকে দিয়ে কাদা থেকে তলোয়ার টেনে তোলালাম। দেখা গেল, খাপ থেকে তলোয়ার বের করার যেকোনো দৃশ্যের চেয়ে এটাই বেশি ভালো লাগছে।

এখনো পুরোপুরি মেটেনি। মোটামুটি প্রতি চারটি ক্লিপে একটিতে শুরুর ওয়াইড শট বেশি লম্বা হয়ে যায়, নয়তো তাতে তলোয়ারই থাকে না। এমন হলে আবার জেনারেট করে নিন।

আপনার যোদ্ধা বিড়ালের ভিডিও নিয়ে আর কী করবেন

একই ছবি থেকে কয়েকটা বানান, আর যেটায় ঝড় সবচেয়ে উদ্দাম, সেটা পোস্ট করুন। পোষা প্রাণীকে অন্য কোনো চরিত্রে দেখতে চাইলে চেষ্টা করুন AI Crying, যেখানে বিড়াল আর কুকুর সত্যিকারের চোখের জল ফেলে; হ্যালোইন আসছে, তাই Jack-o'-Pup আপনার পোষা প্রাণীকে কস্টিউম পরিয়ে দেয়, আর Sassy Paws তাকে নাচায়। ছবি দিলেই ক্লিপ, এমন সব ইফেক্ট আছে টেমপ্লেট বিভাগে, আর শূন্য থেকে নিজে একটা দৃশ্য লিখতে চাইলে চলে যান এআই ভিডিও জেনারেশন-এ।

আপনার বিড়াল বা কুকুরের সবচেয়ে স্পষ্ট ছবিটা বেছে নিন আর Knight Cat টেমপ্লেট দিয়ে তাকে যোদ্ধা বিড়াল বানিয়ে ফেলুন। ক্যাপশন নির্ভর করবে তার দিনটা কেমন গেল তার ওপর।

শেয়ার করুন